১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও মামলা বাতিল হবে না —হাইকোর্ট

 

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা



নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে কোনো মামলার বিচার নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে শুধু সেই কারণে মামলা বাতিল বা বিচারিক কার্যক্রম অকার্যকর হবে না।

হাইকোর্ট Section 20 ও Section 31A বিশ্লেষণ করে বলেছেন, ১৮০ দিনের সময়সীমা mandatory নয়, বরং directory। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধানটি ট্রাইব্যুনালের জন্য একটি নির্দেশনা; সময় অতিক্রান্ত হলেই মামলার বিচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে—আইনে এমন পরিণতি নির্ধারিত নেই।


মামলার সংক্ষিপ্ত পটভূমি

মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র মামলাটি একটি ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়। প্রকাশিত রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, ইডেন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আসামি পাভেলের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই পাভেলের সঙ্গে একটি বাসায় যাওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাবের কথা বলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোরও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা শ্যামপুর থানায় পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য যায়। ২৩ জুলাই ২০০৮ তারিখে পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

পরবর্তীতে মামলার বিচার নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ না হওয়াকে কেন্দ্র করে পাভেল ২০১১ সালের ৮ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তার বক্তব্য ছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০ ও ৩১ক অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম আর চলতে পারে না। এ যুক্তিতে তিনি বিচার স্থগিতের আবেদন করেন। হাইকোর্ট প্রথমে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে।

হাইকোর্ট ৭ জুন ২০২৩ তারিখের রায়ে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। আদালত ধারা ২০ ও ৩১ক বিশ্লেষণ করে বলেন, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধানটি directory (নির্দেশনামূলক); এটি এমন কোনো mandatory শর্ত নয় যে ১৮০ দিন পার হয়ে গেলেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা অকার্যকর হয়ে যাবে।

অর্থাৎ, এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন ছিল—১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে কি শুধু সেই কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার বন্ধ বা বাতিল হয়ে যাবে? হাইকোর্টের উত্তর ছিল—না।


  বেঞ্চ: বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী। 


তথ্যসূত্র:  এখানে ক্লিক করুন |






Post a Comment

0 Comments